মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনঃগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক। তিনি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের হাসানপুর মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা।
তার জন্ম ১৯৬০ সালের ১৫ জানুয়ারি । তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস পাস করেন এবং ১৯৯৩ সালের ২০ এপ্রিল চাকরিতে যোগদান করেন। জেলা ও দায়রা জজ এর চাকরি থেকে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে ১৯ বছর জেলা ও দায়রা জজ ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাস করেন।
গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে নিয়ে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে আইন সচিব শেখ আবু তাহের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সালের আইন নং ২১)-এর ধারা ৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় লঘুদণ্ড হিসেবে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল।
১৭ই নভেম্বর, সোমবার, বেলা পৌনে তিনটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল-১-এর বিচারক বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।