মাইক্রো-প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপ জোরদার করতে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এ বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) “Prevention of Micro-Plastic Pollution” শীর্ষক এ কর্মশালাটি SIBE-NIMC প্রকল্পের আওতায় ইনস্টিটিউট-এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি।

মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপ-প্রকল্প পরিচালক সুমনা পারভীন কর্মশালার সার্বিক পরিচিতি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালকসহ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সুমনা পারভীন, উপ প্রকল্প পরিচালক
উক্ত কর্মশালায় জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি উদ্বোধনী বক্তব্যে মাইক্রো-প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে দূষণরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য গুরুত্বারোপ ও পরামর্শ প্রদান করেন। এদিনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আর্থ ও সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের গবেষণা কমিশনের যুগ্ম প্রধান (যুগ্ম সচিব) জনাব আহমদ কবীর।

আহমদ কবীর, আর্থ ও সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের গবেষণা কমিশনের যুগ্ম প্রধান (যুগ্ম সচিব)
তিনি বাংলাদেশে মাইক্রো-প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং নীতি সহায়তার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। মাইক্রো-প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রুবিনা ফেরদৌসী মাইক্রো-প্লাস্টিক দূষণের কারণে মানবস্বাস্থ্য, খাদ্য শৃঙ্খল ও জলজ পরিবেশে মাইক্রো-প্লাস্টিক-এর প্রভাব ও প্রতিকার তুলে ধরেন।

রুবিনা ফেরদৌসী, উপসচিব (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়)
পরবর্তীতে পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ণ) প্রকল্প পরিচালক মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার কর্মশালার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে তথ্যসমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার, পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ণ) প্রকল্প পরিচালক
এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক ড. মারুফ নওয়াজ বলেন, এ ধরনের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় শুধু নীতিনির্ধারণই যথেষ্ট নয়; বরং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও প্রভাবশালী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

ড. মারুফ নওয়াজ,পরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট
একপর্যায়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) জনাব মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম “মাইক্রো-প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিরোধ ও পরিকল্পনা” বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর সহকারী প্রকল্প পরিচালক মোঃ ফাইম সিদ্দিকী উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীদেরকে উন্মুক্ত আলোচনা এবং তাদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ করে দেন।

মোঃ ফাইম সিদ্দিকী, সহকারী প্রকল্প পরিচালক
একপর্যায়ে উপস্থিত একজন অংশগ্রহণকারী মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল এবং প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) খাতে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যয় ও বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এ প্রেক্ষিতে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি বিষয়টির ওপর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং সমন্বিত পরিকল্পনা, নীতি সহায়তা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে পুরো কর্মশালাকে আরও প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ করে তোলে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী একজন গণমাধ্যমকর্মী
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, গবেষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশ
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তবধর্মী করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে ফটোসেশন করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।

কর্মশালা শেষে একজন অংশগ্রহণকারীর সনদ গ্রহণ করছেন
সবশেষে কর্মশালার সার্বিক কার্যক্রমের পর অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে সম্মিলিত ছবি তোলা হয়। মাইক্রো-প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্তের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কর্মশালা শেষে সনদ গ্রহণের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মিলিত ছবি