যৌন অভিমুখিতার কারণে এক যুবক ধারাবাহিক সহিংসতা, হুমকি ও সামাজিক বর্জনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জিতু মৃধা (জন্ম: ৬ মার্চ ১৯৯৬), যিনি নিজেকে উভকামী (বাইসেক্সচুয়াল) হিসেবে পরিচয় দেন, বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রার্থনা করেছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মুন্সিগঞ্জে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন এবং দীর্ঘদিন সামাজিক ও আইনি বাস্তবতার কারণে নিজের যৌন পরিচয় গোপন রাখতেন। ২০২৪ সালে তার শৈশবের বন্ধু অমিত হাসানের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা তারা গোপন রাখেন। তবে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি একটি ব্যক্তিগত ঘটনার মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় অমিত হাসানের পরিবারের এক সদস্য জিতুকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে দেন। এর ফলে জিতুর পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ পায় এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। পরবর্তীতে তিনি গৃহবন্দিত্ব, সামাজিক চাপ ও স্থানীয়ভাবে হুমকির মুখে পড়েন বলে জানান। এক পর্যায়ে স্থানীয় এক ধর্মীয় ব্যক্তির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পান বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একদল ব্যক্তি তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এরপর ২৫ মার্চ পুনরায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
জিতু মৃধা জানান, তার যৌন পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তিনি টার্গেটে পরিণত হন। দেশে তার জন্য কোনো নিরাপদ স্থান নেই এবং যেকোনো সময় গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি শুধু নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন চাই, যেখানে ভয় ও সহিংসতা থাকবে না।” এর আগেও জিতুর উপর হামলা হলে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে, যেমন কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেখানেও তাকে সনাক্ত করে হুমকি দেওয়া হয় এবং পুনরায় হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন। এমনকি তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।