April 18, 2026, 2:03 pm

শিক্ষকগণ জাতির বিবেক

পিন্সিপাল এম.এ. মোনায়েম
লেখকের ছবি

“শিক্ষকগণ জাতির বিবেক”

শিক্ষকগণ নন্দিত হলেও গুটিকয়েক শিক্ষকের জন্য মাঝে মাঝে নিন্দিত হতে হয়। শিক্ষকগণ জাতির বিবেক, সমাজের বিবেক, জাতি গঠনের হাতিয়ার, মর্যাদার প্রতীক ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। সকল ভাল কাজের সাথে আছেন শিক্ষক। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষকেরা অবহেলিত। ১৯৬৬ সালে পাঁচ অক্টোবর প্যারিসে আন্ত-সরকার সম্মেলনে ইউনেসকো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আই.এল.ও) শিক্ষকদের অধিকার দায়িত্ব ও মর্যাদা বিষয়ক ঐতিহাসিক দলিল। যা ইউনেস্কো আইএলও সুপারিশ মালা ১৯৬৬ স্বীকৃত ও গৃহীত হয়। আজ শিক্ষকদের মর্যাদা অনেকটাই ক্ষুন্ন হচ্ছে। শিক্ষকের দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্রমান্বয়ে অগ্রহণযোগ্য এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হচ্ছে। শুধু তাই নয় এই অপরাজনীতির কারণে সুষ্ঠ ও কাঙ্খিত পাঠদানসহ গবেষণা সৃজনশীলতা থেকে শিক্ষকেরা অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। শিক্ষকদের লাল-নীল দল, ছাত্র অভিভাবকদের কাছে নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিতে শিক্ষকগণ সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে যে দল সরকার গঠন করে সেই দলের শিক্ষকগণ ভিসি, প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষ্য মনোনীত হয় বলে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকগণ বাদ পড়ে যায়। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাসহ শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন দিক থেকে বঞ্চিত হয়।

শিক্ষার্থীদের উপর নেমে আসে গেস্টরুম বা গণরুমের নির্যাতনসহ নানান অনিয়ম অত্যাচার বঞ্চনার ইতিহাস। বুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদসহ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা অজুহাতে হত্যাসহ নানান অপকর্ম সংঘটিত হয়। শিক্ষার্থীরাও তাদের মনের অজান্তে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দলীয় রাজনীতির যাতাকলে পৃষ্ট হয়ে মেধাবী ছাত্র হয়েও কেরানির চাকরির যোগ্যতাও অনেকাংশে হারিয়ে ফেলে। তাদের জীবনে নেমে আসে হতাশা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সূচনা। তখনই শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যাসহ নানাবিধ নেশায় নেশাগ্রস্থ হয়ে জীবনের অন্ধকারে তলিয়ে যায়। সমাজ ও সাধারণ মানুষ থেকে নিজেদের গুটিয়ে ফেলে এবং একাকীত্ব জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এভাবে জাতি দিন দিন মেধাশূণ্য হয়ে যাচ্ছে।

এ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সকল দুর্নীতি রোধ করতে হবে।
জাতীয় দৈনিকের এক তথ্য মতে গত তিন অর্থ-বছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। এরপরেও নিশ্চিত হয়নি শিক্ষার গুণমান, হয়েছে অনিয়ম দুর্নীতিসহ নানান সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কোচিং অবৈধ বই, গাইড বইসহ বিভিন্ন বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাবোর্ডের একশ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্টিফিকেট জাল-জালিয়াতি বাণিজ্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রোভিসি, কোষাধ্যক্ষ্যদের অনিয়ম দুর্নীতি। শিক্ষার এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে শিক্ষকদের যৌন হয়রানি অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স, শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগতমান আজ প্রশ্নাতীত, এটাও এক ধরণের বাণিজ্য। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ কোনভাবেই নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে পাঠদান করতে পারবে না, এমন আইন প্রনয়ণ করে জরুরী ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

-প্রিন্সিপাল এম এ মোনায়েম

লেখক ও রাজনীতিবিদ,
সিনিয়র সহ-সভাপতি,
বাংলাদেশ অধ্যক্ষ্য পরিষদ ও
প্রেস ইন্সটিটিউট জার্নালিজম অ্যাসোসিয়েশন
আহ্বায়ক, সার্ক জার্নালিষ্ট ফোরাম
কাউন্সিলর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)
জীবন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালাননাই অ্যাসোসিয়েশন।
ফোন: ০১৭১৬১৩৯৭০২
ই-মেইল: monayemprincipal@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ