আজ বিশ্ব “নারী দিবস”। আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারীরা আজ সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে যেভাবে অবদান রাখছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ দিবসকে কেন্দ্র করে নানা রকম অনুষ্টান পালন হলেও ক’জন আসলে নারীদের জন্য ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থভাবে কিছু করার চিন্তা করেন! তবে হ্যা, আমাদের সমাজে এমন কিছু নারী রয়েছেন যারা শুধু নারী নিয়েই ভাবেন না। তাদের ভাবনায় থাকে ছোট্ট ফুটফুটে শিশুও। আমরা আজ এমনই একজন নারীর পরিচয় জানবো যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। যিনি শুধু সমাজের নারী-শিশু নিয়েই ভাবেন না। বরং অনেকদিন ধরে পেশাগত দিক থেকেও নারী ও শিশুদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। বলছিলাম, গাইনি চিকিৎসক ডা. রহিমা সুলতানা’র কথা। তিনি তাঁর অসামান্য প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে মাতৃত্বের সুরক্ষা এবং নারীদের স্বাস্থ্য সেবায় এক অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করলেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে গাইনোক্লোজি’র উপর উচ্চতর ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। ২০১০ সালে তিনি সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন এবং সেই সুবাদে রাষ্ট্র ও জনগণের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পাশাপাশি, তিনি রাজধানীর মিরপুরের ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার-এ গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়মিত রোগী দেখছেন।
তিনি প্রতিদিন তার রোগীদেরকে সহানুভূত ও ভালোবাসা দিয়ে পেশাদারিত্বের সাথে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, মহিলাদের স্বাস্থ্য এবং প্রসবকালীন যত্নে তার অনবদ্য অভিজ্ঞতা অনেক নারীর জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার হাত ধরে অসংখ্য শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে। তাই তিনি শিশুদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ও কোমল।
শিশুদের প্রতি কেউ নির্মম আচরণ করলে তিনি তার প্রতিবাদ করেন। আজকের এই নারী দিবসে সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া নানা রকম ঘৃণিত ও লজ্জাজনক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার ফেসবুক টাইম লাইনে “নারী দিবসে ভাবনা:২০২৫” শিরোনামে একটি লম্বা পোস্ট করেন। যেখানে তিনি লিখেন- “নারী দিবস কি? কেন এই দিবস নিয়ে এতো আলোচনা? শুধুমাত্র ভোগের পণ্য এই ট্যাবু থেকে কবে বের হয়ে সভ্য হব? নিজের নিকট আত্মীয় যেখানে হায়না সেখান থেকে উত্তোরণের উপায় কি? যে বাচ্চা মেয়ে আজ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে তার কথা আগামীকালই আমরা ভুলে যাবো। সে যদি সুস্থ্যও হয় তার মানসিক ট্রমা থেকে সে কি বের হতে পারবে কখনো? সমাজ কি দেবে বের হতে? শাহবাগ-এ প্রকাশ্যে ধূমপান করার লাইসেন্স পেলেই কি মেয়েরা তাদের so called অধিকার পেয়ে গেল? খোলামেলা পোশাক আর স্যানিটারি প্যাড নিয়ে খোলামেলা কথা বলাই কি নারীর স্বাধীনতা? ঠিক কোথা হতে শুরু করলে আমরা আমাদের মেয়ে শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবো? ছেলে বাচ্চাদের শিশু বয়স থেকে তাদের মনে মেয়েদের সম্মানের জায়গা তৈরি কে করবে? পরিবার? স্কুল-মাদ্রাসা, কাজের জায়গা সবখানে তো বিষাক্ত হায়েনা। “রাত পোহাতে কত দেরি পাঞ্জেরী?”
ডা. রহিমা সুলতানা প্রতি বুধবার, বৃহস্পতিবার এবং শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রোগী দেখেন। রোগীরা তার মানবিক গুণাবলী এবং পেশাগত দক্ষতার প্রতি আস্থা রেখে তার কাছে আসেন। চিকিৎসার পাশাপাশি, তিনি নারীস্বাস্থ্য ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করে চলেছেন। মায়ের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যের দিকে তার নিবিড় দৃষ্টি তাকে একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ডা. রাহিমা সুলতান‘র মতো নারী চিকিৎসকেরা শুধু চিকিৎসা শিল্পে নয়, সমাজের পরিবর্তন ও উন্নয়নে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করছেন। তার সেবা এবং সাহসিকতা নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে, এবং তাদের অবদান সমাজে আরও বৃহত্তর প্রভাব ফেলবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
রোগীরা যোগাযোগ করতে পারেন:
ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, মিরপুর
বুধবার, বৃহস্পতিবার, শনিবার
সময়: সন্ধ্যা ৭টা হতে রাত ১০টা
হট লাইন ০৯৬১০০০৯৬২১