রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ (Passing Out Parade) অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টায় আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ, প্যারেড পরিদর্শন এবং প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিনন্দন জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আধুনিক, জনবান্ধব, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে দক্ষ, সৎ ও মানবিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এছাড়া জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রশিক্ষণার্থীরা সুশৃঙ্খল মার্চপাস্ট, ড্রিল ও আনুষ্ঠানিক প্যারেড প্রদর্শন করেন। তাদের চৌকস পদচারণা, শৃঙ্খলাবোধ ও পেশাদার উপস্থাপনা উপস্থিত অতিথিদের প্রশংসা কুড়ায়। সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপ সফলভাবে শেষ হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এসব নবীন কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এদিকে, এই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসান উল্লাহর ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আইন পেশা থেকে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগদান করে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য অধ্যবসায়, মেধা ও দেশসেবার এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ঝিনাইদহে বেড়ে ওঠা আহসান উল্লাহর শিক্ষাজীবনের সূচনা বাবার হাত ধরেই। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি আইন বিষয়ে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানের সুযোগ পান।
প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে বাবাকে পাশে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আহসান উল্লাহ। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি চশমা চ্যানেলকে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং দমন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে চান। তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জন করে একটি মানবিক, পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।”
নিজের এই অর্জনের পেছনে পরিবারের, বিশেষ করে বাবার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সহকর্মী আইনজীবী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, যাদের উৎসাহ ও সমর্থন তাকে এই পথচলায় অনুপ্রাণিত করেছে।
আহসান উল্লাহর এই সাফল্যের খবর ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও নেটিজেনরা তাকে অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করছেন। আইন পেশা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যোগদানের তার এই যাত্রা অনেক তরুণের কাছে অধ্যবসায়, মেধা ও দেশসেবার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।