April 20, 2026, 10:18 am

দেশে ফিরেছেন “জেগে ওঠো আবার” বইয়ের লেখক ও ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী

আমিনুল হক বিরাশি
জনপ্রিয় এবিট লিউ-এর সাথে এক আনন্দঘন মূহূর্তে ড. মিজানুর রহমান আজহারী

বুধবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আজহারী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সালামাতে প্রিয় মাতৃভূমিতে এসে পৌঁছালাম। পরম করুণাময় এই প্রত্যাবর্তনকে বরকতময় করুন। দুআর নিবেদন।’
এর আগে গত ৬ জুলাই ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, অনেকে আমাকে মেসেজ করে ও ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে জানতে চেয়েছেন আমি কবে দেশে ফিরবো। আমি তাদের বলতে চাই, আমি দ্রুতই দেশে ফিরবো। আপনাদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছি আমি নিজেও। শিগগির সাম্য, মানবিকতার মুক্ত-স্বাধীন, বাংলাদেশে আমি আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই।

ছবি: সংগৃহিত

মিজানুর রহমান আজহারী (২৬ জানুয়ারি ১৯৯০) একজন বাংলাদেশি ইসলামি বক্তা, ধর্ম প্রচারক ও লেখক। তিনি ওয়াজ মাহফিল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামিক কনফারেন্সে নিয়মিত বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তরুণ এই ইসলামিক আলোচক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো-

ছবি: সংগৃহিত

প্রাথমিক জীবন:
মিজানুর রহমানের পিতা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও মাতা গৃহিণী। ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ডেমরা থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের পরমতলা গ্রামে। তিনি ছোট বেলা থেকে মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। পরে তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পান। মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে তার নামের সাথে ‘আজহারী’ উপাধি যুক্ত হয়েছে। মিজানুর রহমান ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

শিক্ষাজীবন:
আজহারী দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে যথাক্রমে ২০০৪ সালে দাখিল ও ২০০৬ সালে আলিম পাশ করেন। তিনি উভয় পরীক্ষাতেই বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে মেধাতালিকায় শীর্ষ স্থান অধিকার করেন। ২০০৭ সালে ইসলামি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত মিশরীয় সরকারের স্কলারশিপ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীকালে তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে তাফসির ও কুরআনভিত্তিক বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করে মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এমফিলের গবেষণার বিষয় ছিল ‘হিউম্যান এম্ব্রায়োলজি ইন দ্য হোলি কুরআন’ (পবিত্র কুরআনে মানব ভ্রূণবিদ্যা)। তারপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। তিনি ‘হিউম্যান বিহ্যাভিয়ারেল ক্যারেক্টারইসটিক্স ইন দ্য হোলি কুরআন অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল স্টাডি’ (পবিত্র কুরআন ও বিশ্লেষণী গবেষণায় মানব আচরণগত বৈশিষ্ট্য)-এর ওপর ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভাইভার মাধ্যমে সফলভাবে পি.এইচ.ডি. গবেষণা সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবন:
আজহারী ২০১০ সালে ইসলামি গজল ও কিরাত (কুরআনের বাণী) তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই পরিচিতি লাভ করতে থাকেন।পরে তিনি এটিএন বাংলা টিভির একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে তিনি ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। বৈশাখী টেলিভিশনে ‘ইসলাম ও সুন্দর জীবন’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান করেছেন।

জনপ্রিয়তা:
ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চলেও নিজেকে সমসাময়িকভাবে উপস্থাপন করা ও কুরআন-হাদিস বিষয়ক সহজ-সাবলীল ও গবেষণাধর্মী আলোচনার কারণে অল্প সময়ে তিনি বাংলাদেশের মুসলিম বিশেষত মুসলিম তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অনেক সময় দেখা গিয়েছে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে তার উপস্থিতিতে উম্মুক্ত মঞ্চেই বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার তাফসিরুল কুরআন মাহফিলগুলোতে সাধারণ মুসলিম ও তরুণদের ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়।

প্রকাশিত গ্রন্থ:
আজহারীর প্রথম বই “ম্যাসেজ: আধুনিক মননে দ্বীনের ছোঁয়া” ২০২১ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়। আজহারির দ্বিতীয় বই “আহ্বান: আধুনিক মননে আলোর পরশ” ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়। তার লেখা তৃতীয় বই “রিফলেকশন ফ্রম সূরা ইউসুফ” প্রকাশিত হয়। তার চতুর্থ বই প্রকাশিত হয় “জেগে ওঠো আবার”

ছবি: সংগৃহিত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ