মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নতুনচর গ্রামে প্রবাসীর পৈতৃক বাড়িতে আবারও ভাঙচুর চালিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার সামনেই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চলতি বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর গজারিয়ায় একটি প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হয়। যেখানে প্রবাসী আক্তার হোসেনের বাড়ি-ঘর দফায় দফায় ভাঙচুর ও এলাকাবাসীর উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কানাডায় অবস্থানরত আক্তার হোসেনের অনুপস্থিতির সুযোগে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক সময়ের আওয়ামীলীগ নেতা শিহাব ও নজরুল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সাথে গোপনে আতাত করে প্রবাসীর ওই বসত বাড়িতে হামলা চালায়।
এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বাসার ভিতরে থাকা দামী দামী মালামাল ও স্থাপনা। সেই সাথে কেটে ফেলে প্রায় ৩০ বছরের পুরনো কাঠ ও মৌসুমী ফলের গাছ। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন আক্তার হোসেনের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ঘটনার বর্নণা দিতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী মহল্লার একজন বাসিন্দা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন- “দুই বছর আগে এমন ঘটনা একবার ঘটেছিল, তখন এলাকার মুরব্বীদের মাধ্যমে শালিসী বৈঠকে তা মিমাংসা করা হয়। আক্তার হোসেন প্রবাসে জীবন-যাপন করায় তার বাড়িটি সব সময় খালি পড়ে থাকে। তাই তারা সুযোগ পেয়ে প্রায় সময়েই এসব ঘটাচ্ছে । শিহাব ও নজরুল বাহিনীর অত্যাচারের ভয়ে আমরাও এখন আতঙ্কে থাকি”।
স্থানীয়দের অভিযোগ- আওয়ামীলীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেভাবে তারা জুলুম করেছিলো বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে একই আচরণ করে যাচ্ছে। এলাকাবাসী ধারণা করছেন- প্রবাসী আক্তার হোসেনের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করাই হলো এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য।
জানা যায়, জনাব আক্তার হোসেন এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তি। প্রবাসে অবস্থান করলেও নিয়মিতভাবে এলাকার নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থাকেন। যদিও তিনি বর্তমানে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেই তবে জানা যায়, একসময় তিনি নাগরিক ঐক্য বাংলাদেশ নামে একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই অনেকেই ধারণা করছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। শিহাব ও তার ক্যাডারবাহিনীর এই অত্যাচারের ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নতুনচর গ্রামবাসীরদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে জনাব আক্তার হোসেন কানাডায় স্বপরিবারে অবস্থান করছেন।